শিরোনামঃ
ভাষানচর হামিদ নগর উচ্চ বিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত অস্ত্র মামলায় ফরিদপুরে রুবেল ও তার সহযোগীর ১৭ বছরের কারাদণ্ড বিশ্ব ইজতেমায় অংশ নিতে যাওয়া আরেক মুসল্লির মৃত্যু ফরিদপুরে স্যুটকেসে লাশ উদ্ধারের হত্যাকারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে বাজারে আসছে পারমানবিক ব্যাটারি, এক চার্জে স্মার্টফোন চলবে ৫০ বছর ফরিদপুর টু গুলিস্তান গোল্ডেন লাইন বাসের নতুন সময়সূচী- নির্বাচিত হতে পারলে প্রাইমারী স্কুল করে দেবো – এ.কে আজাদ পথচারীকে বাচিয়ে প্রান নিলো ভ্যান চালকের রাজবাড়িতে বাড়ি লিখে না দেওয়ায় শাশুড়িকে মারধর করলো পুত্রবধূ পদ্মা সেতু হয়ে “সুন্দরবন ও বেনাপোল এক্সপ্রেস” ট্রেনের সময়সূচি
ফরিদপুরে ১৬০টি বিদ্যালয়ের ডিজিটাল হাজিরা মেশিন আসছে না কোনো কাজে

ফরিদপুরে ১৬০টি বিদ্যালয়ের ডিজিটাল হাজিরা মেশিন আসছে না কোনো কাজে

সালথা-নগরকান্দায় ১৬০টি বিদ্যালয়ের ডিজিটাল হাজিরা মেশিন আসছে না কোনো কাজে

ফরিদপুরের সালথা ও নগরকান্দায় ১৬০ টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্থাপিত বায়োমেট্রিক ডিজিটাল হাজিরা মেশিন ভেঙে পড়েছে। শিক্ষকদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে এসব ডিভাইস বসানো হলেও কোনো কাজে আসছে না। ফলে সঠিক সময়ে বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের উপস্থিতি নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। সরকারের ৩১ লাখ টাকাও নষ্ট হয়েছে।

শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯ সালে সালথা ও নগরকান্দায় ১৬০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রতিটি স্কুলে ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। বরাদ্দকৃত টাকা থেকে ডিজিটাল হাজিরা ডিভাইস কেনার পর তা প্রতিটি বিদ্যালয়ে স্থাপন করা হয়েছে। তবে এসব হাজিরা মেশিনের কার্যক্রম সর্বোচ্চ এক থেকে দুই মাস স্থায়ী হয়। এরপর গত ৩-৪ বছর ধরে অজ্ঞাত কারণে হাজিরা মেশিনের ব্যবহার বন্ধ রয়েছে। তবে শিক্ষকদের দাবি মেশিনগুলো নষ্ট হওয়ায় প্রেক্ষিতে ব্যবহার বন্ধ রাখা হয়েছে।

এদিকে হাজিরা ডিভাইস ক্রয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষক সমিতি ও সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা সিন্ডিকেট করে নিম্নমানের প্রতিটি হাজিরা ডিভাইস ৬ থেকে ৮ হাজার টাকায় ক্রয় করে। তবে সালথায় স্লিপ প্রজেক্ট থেকে প্রতিটি হাজিরা ডিভাইসের দাম দেখানো হয়েছে ১৪ থেকে ১৫ হাজার টাকা। আর নগরকান্দায় প্রতিটি মেশিনের জন্য বরাদ্দ খরচ দেখানো হয়েছে ২৫ হাজার টাকা।

আরও পড়ুনঃ ফরিদপুরে স্কুলছাত্রী অপহরণের সময় গণধোলাই

সালথার পুটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মনিরুজ্জামান জানান, উপস্থিতি মেশিন নষ্ট হওয়ায় ব্যবহার বন্ধ রয়েছে। ডিভাইসটিতে মাত্র এক বছরের ওয়ারেন্টি ছিল। ওই এক বছরে যাদের উপস্থিতি ডিভাইস নষ্ট হয়ে গিয়েছিল তাদের মেরামত করার সুযোগ ছিল। কিন্তু যাদের ওয়ারেন্টির মেয়াদ শেষ তারা তা মেরামত করেনি। তাই ভেঙ্গে গেছে। তার মতো অন্যান্য বিদ্যালয়ের শিক্ষকরাও একই দাবি করেন।

সালথা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি মো. মাইনুল ইসলাম বলেন, স্লিপ বরাদ্দ থেকে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও ব্যবস্থাপনা বোর্ড কমিটি নিজ উদ্যোগে উপস্থিতি মেশিন ক্রয় করে। এখানে শিক্ষক সমিতির কোনো হাত ছিল না। প্রতিটি মেশিন কিনতে খরচ হয়েছে ১৪ থেকে ১৫ হাজার টাকা। তবে ডিভাইসগুলোর ওয়ারেন্টি মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় বেশিরভাগ ডিভাইসই অকেজো হয়ে পড়েছে।

নগরকান্দা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি মানোয়ার হোসেন জানান, নগরকান্দায় ৮৪টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রতিটিতে ২৫ হাজার টাকায় একটি করে হাজিরা মেশিন কেনা হয়েছে। এসব যন্ত্রপাতি সংশ্লিষ্ট স্কুল নিজেই কিনেছে। কিন্তু যন্ত্রগুলো এখন ব্যবহার হচ্ছে না। সব মেশিন নষ্ট।

নগরকান্দা উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা রওনক আরা বেগম বলেন, হাজিরা মেশিন কেনার সময় আমি উপস্থিত ছিলাম না। কিন্তু আমি শুধু জানি প্রতিটি স্কুলের হাজিরা মেশিন নষ্ট।

সালথা উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. আতিকুল ইসলাম বলেন, সব হাজিরা ডিভাইস নষ্ট হয়নি। কিছু ভালো আছে. কিন্তু যেগুলো নষ্ট হয়ে গেছে সেগুলো মেরামতযোগ্য নয়। আবার মেরামতের জন্য আলাদা কোনো বরাদ্দ নেই। সালথা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আনিসুর রহমান বালী বলেন, যেহেতু বিষয়টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের। তাই বিষয়টি প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ভালো বলতে পারবেন।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




সর্বশেষ খবর

©2020 SomoyerKhbor All rights reserved ®

Design BY NewsTheme