শিরোনামঃ
ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রাকটিক্যাল লিখিত পরীক্ষার প্রশ্ন ও উত্তর

ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রাকটিক্যাল লিখিত পরীক্ষার প্রশ্ন ও উত্তর

ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রাকটিক্যাল লিখিত পরীক্ষার প্রশ্ন ও উত্তর

বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি ড্রাইভিং লাইসেন্স দেওয়ার পূর্বে প্রার্থীর প্রাকটিক্যাল পরীক্ষা গ্রহণের পর লিখিত পরীক্ষা নিয়ে থাকে। আমাদের গুরুত্বপূর্ণ ভিজিটরকে সহযোগিতা করার জন্য আমরা এই পোস্টে ড্রাইভিং লাইসেন্স লিখিত পরীক্ষায় আসা প্রশ্ন এবং সেগুলোর উত্তর এখানে সরবরাহ করেছি।

বিগত 10 বছরের ড্রাইভিং লাইসেন্সের লিখিত পরীক্ষায় বারবার আসা প্রশ্নগুলোর বাইরে খুব বেশি প্রশ্ন হয় না। তাই নিচে উল্লেখিত প্রশ্নের উত্তর জানা থাকলে অতি সহজেই একজন ভোক্তা বা পরীক্ষার্থী লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।

তাই, নিচের প্রশ্নোত্তরগুলো ড্রাইভিং লাইসেন্সের লিখিত পরীক্ষার আগে যে কেউ সংগ্রহ করতে পারেন। গবেষণায় দেখা গেছে যে বিষয় ভিত্তিক ড্রাইভিং লাইসেন্সের এই প্রশ্নোত্তরগুলো ঘুরেফিরে পরীক্ষায় এসে থাকে।

ড্রাইভিং লাইসেন্স লিখিত পরীক্ষার প্রশ্নোত্তর

১। গাড়ি রাস্তার কোনপাশ দিয়ে চলাচল করবে ?
উত্তরঃ রাস্তার বামপাশ দিয়ে গাড়ি চলাচল করবে। যে-রাস্তায় একাধিক লেন থাকবে সেখানে বামপাশের লেনে ধীর গতির গাড়ি, আর ডানপাশের লেনে দ্রুত গাতির গাড়ি চলাচল করবে।

২। নিষিদ্ধ হর্ন বা উচ্চশব্দ উৎপাদনকারী যন্ত্র গাড়িতে ব্যবহার করলে শাস্তি কী ?
উত্তরঃ জরিমানা হবে ১০০ টাকা পর্যন্ত (মোটরযান অধ্যাদেশ, ১৯৮৩ এর ১৩৯ ধারা)।

৩। রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট, ফিটনেস সার্টিফিকেট ও রুটপারমিট ব্যতীত গাড়ি চালালে বা চালানোর অনুমতি দিলে শাস্তি কী ?
উত্তরঃ প্রথমবার অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ ৩ মাস কারাদণ্ড অথবা ২০০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা অথবা উভয়দণ্ড। দ্বিতীয়বার বা পরবর্তী সময়ের জন্য সর্বোচ্চ ৬ মাস কারাদণ্ড অথবা ৫০০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা অথবা উভয়দণ্ড (মোটরযান অধ্যাদেশ, ১৯৮৩ এর ১৫২ ধারা)। এই ক্ষেত্রে মালিক ও চালক উভয়েই দণ্ডিত হতে পারেন।

৪। মোটর ড্রাইভিং লাইসেন্স কী ?
উত্তরঃ মোটর ড্রাইভিং লাইসেন্স হল, সব জায়গায় মোটরযান চালানোর জন্য লাইসেন্স কর্তৃপক্ষ কর্তৃক ইস্যুকৃত বৈধ দলিলই মোটর ড্রাইভিং লাইসেন্স।

৫। অপেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স কাকে বলে ?
উত্তরঃ যে-লাইসেন্স দিয়ে একজন চালক কারো বেতনভোগী কর্মচারী না হয়ে মোটর সাইকেল, হালকা মোটরযান এবং অন্যান্য মোটরযান (পরিবহনযান ব্যতীত) চালাতে পারে, তাকে অপেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স বলে।

৫। ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়ার ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন বয়স কত?
উত্তরঃ পেশাদার চালকের ক্ষেত্রে ২০ বছর এবং অপেশাদার চালকের ক্ষেত্রে ১৮ বছর।

৬। কোন কোন ব্যক্তি ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়ার অযোগ্য বলে বিবেচিত হবে?
উত্তরঃ যেই যেই ব্যক্তি ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়ার অযোগ্য হবে
* উন্মাদ বা পাগল, * কুষ্ঠরোগী, * বধিরব্যক্তি * অতিরিক্ত মদ্যপব্যক্তি, এবং
* রাতকানারোগী, * হৃদরোগী, * বাহু বা পা চলাচল নিয়ন্ত্রণ করতে অসুবিধা হয় এমন ব্যক্তি।

৭। কোন কোন স্থানে গাড়ি পার্ক করা নিষেধ ?
উত্তরঃ ১। যেখানে পার্কিং নিষেধ বোর্ড আছে এমন স্থানে, ২। জাংশনে, ৩। ব্রিজ/কালভার্টের ওপর, ৪। সরু রাস্তায়, ৫। হাসপাতাল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এলাকায়, ৬। পাহাড়ের ঢালে ও ঢালু রাস্তায়, ফুটপাত, পথচারী পারাপার এবং তার আশেপাশে, ৭। বাস স্টপেজ ও তার আশেপাশে এবং ৮। রেলক্রসিং ও তার আশেপাশে।

৮। হালকা মোটরযান কাকে বলে?
উত্তরঃ হালকা মোটরযান হল, রেজিস্ট্রিকৃত যে মোটরযানের ওজন ৬,০০০ পাউন্ড বা ২,৭২৭ কেজির অধিক নয় বোঝায়, তাকে হালকা মোটরযান বলে।

৯। মদ্যপ বা মাতাল অবস্থায় গাড়ি চালনার শাস্তি কী ?
উত্তরঃ মদ্যপ বা মাতাল অবস্থায় গাড়ি চালনার শাস্তি হল মোটরযান অধ্যাদেশ, (১৯৮৩ এর ১৪৪ ধারা) চালক’কে সর্বোচ্চ ৩ মাস কারাদণ্ড বা ১০০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা বা উভয়দণ্ড। পরবর্তী সময়ে প্রতিবারের জন্য সর্বোচ্চ ২ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা ১০০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা বা উভয়দণ্ড এবং নির্দিষ্ট মেয়াদে ড্রাইভিং লাইসেন্স বাতিল ।

১০। ফোরহুইলড্রাইভ কখন প্রয়োগ করতে হয় ?
উত্তরঃ ভালো রাস্তাতে চলার সময় শুধুমাত্র পেছনের দু-চাকাতে ড্রাইভ দেওয়া হয়। কিন্তু পিচ্ছিল, কর্দমাক্ত রাস্তায় চলার সময় চার চাকাতে ড্রাইভ দিতে হয়।

১১। লাল বৃত্তে একজন চলমান মানুষের ছবি আঁকা থাকলে কী বুঝায় ?
উত্তরঃ পথচারী পারাপার নিষেধ।

১২। লাল ত্রিভুজে একজন চলমান মানুষের ছবি আঁকা থাকলে কী বুঝায় ?
উত্তরঃ পথচারী পারাপার সামনে, সাবধানে চলাচল করতে হবে।

১৩। লাল বৃত্তের ভিতর একটি লাল ও একটি কালো গাড়ি থাকলে কী বুঝায়?
উত্তরঃ ওভারটেকিং নিষেধ।

১৪। আয়তক্ষেত্রে ‘চ’ লেখা থাকলে কী বুঝায় ?
উত্তরঃ পার্কিংয়ের জন্য নির্ধারিত স্থান।

১৫। কোন কোন স্থানে গাড়ির হর্ন বাজানো নিষেধ ?
উত্তরঃ গাড়ির হর্ন নীরব এলাকায় বাজানো নিষেধ। যেমনঃ
* হাসপাতাল,
* শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান,
* অফিস-আদালত বা অনুরূপ প্রতিষ্ঠানের চারপাশে ১০০ মিটার পর্যন্ত এলাকা নীরব এলাকা হিসাবে ধরা হয়ে থাকে।

১৬। কোন কোন স্থানে ওভারটেক করা নিষেধ ?
উত্তরঃ যে স্থানে ওভারটেক করা নিষেধ
ক. ওয়ারটেকিং নিষেধ পতিক থাকে এমন স্থানে,
খ. জাংশনে,
গ. ব্রিজ ও তার আগে পরে নির্দিষ্ট দূরত্ব,
ঘ. সরু রাস্তায়,
ঙ. হাসপাতাল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এলাকায়।

১৭। গাড়ি চালানোর জন্য শিক্ষা ন বিশ ড্রাইভিং লাইসেন্স কি বৈধ ?
উত্তরঃ ইনসট্রাক্টরের উপস্থিতিতে ডুয়েল সিস্টেম (ডাবল স্টিয়ারিং ও ব্রেক) সম্বলিত গাড়ি নিয়ে সামনে ও পিছনে “খ” লেখা প্রদর্শন করে নির্ধারিত এলাকায় চালানো বৈধ।

১৮। ফোরহুইলড্রাইভ গাড়ি বলতে কী বুঝায় ?
উত্তরঃ সাধারণত ইঞ্জিন হতে গাড়ির পেছনের দু-চাকায় পাওয়ার (ক্ষমতা) সরবরাহ হয়ে থাকে। বিশেষ প্রয়োজনে যে-গাড়ির চারটি চাকায় (সামনের ও পিছনের) পাওয়ার সরবরাহ করা হয়, তাকে ফোরহুইলড্রাইভ গাড়ি বলে।

১৯। টুলবক্স কী ?
উত্তরঃ টুলবক্স হচ্ছে যন্ত্রপাতির বাক্স, যা গাড়ির সঙ্গে রাখা হয়। মোটরযান জরুরি মেরামতের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও মালামাল টুলবক্সে রাখা হয়।

২০। ব্রিজে ওঠার পূর্বে একজন চালকের করণীয় কী?
উত্তরঃ ব্রিজ বিশেষকরে উঁচু ব্রিজের অপরপ্রান্ত থেকে আগত গাড়ি সহজে দৃষ্টিগোচর হয় না বিধায় ব্রিজে ওঠার পূর্বে সতর্কতার সাথে গাড়ির গতি কমিয়ে উঠতে হবে। তাছাড়া, রাস্তার তুলনায় ব্রিজের প্রস্থ অনেক কম হয় বিধায় ব্রিজে কখনো ওভারটেকিং করা যাবে না।

২১। প্রধান রাস্তায় পার্শ্বরাস্তা থেকে প্রবেশ করার সময় কী কী সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়?
উত্তরঃ পার্শ্বরাস্তা বা ছোট রাস্তা থেকে প্রধান রাস্তায় প্রবেশ করার আগে গাড়ির গতি কমায়ে, প্রয়োজনে থামায়ে, প্রধান রাস্তার গাড়িকে নির্বিঘনে আগে যেতে দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। প্রধান সড়কে গাড়ির গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে সুযোগমত সতর্কতার সাথে প্রধান রাস্তায় প্রবেশ করতে হবে।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




সর্বশেষ খবর

©2020 SomoyerKhbor All rights reserved ®

Design BY NewsTheme